এই যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন যাহারা

সাবমেরিনার লে: গাজী মো. রহমতউল্লাহ, মেজর সামছুল আরেফিন, খিজির আলী, স ম বাবর আলী, কামরুজ্জামান টুকু, শেখ আ. কাইয়ুম, কমান্ডো বজলুল রহমান, আবদুস সাত্তার, জহুরুল হক, কামরুল হুদা, শাহাদাত হোসেন, রমেন্দ্রনাথ, মহেন্দ্র, আ. কাদের, আবুল হোসেন, সৈয়দ আক্রাম, খলিলউল্লাহ, আলফাজউদ্দিন, সুবোধ বিশ্বাস, আ.হক, জিএম আ. রহিম, মাহফুজুল হক, জিএমএ গফ্ফার, বিশ্বনাথ পালিত, আ. গফুর, সুশীল কুমার, সুবোধ কুমার, দিলীপ কুমার রায়, আলফাজ উদ্দিন, শফিক, জবেদ আলী, আশরাফ, প্রফুল্ল কুমারসহ ৪০-৫০জন নৌ-কমান্ডো এবং ২০০ স্থলবাহিনীর গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা।
আশাশুনি এবং চাপড়া রাজাকার ও মিলিশিয়া ঘঁাটি দখলের পর মুজিবনগর থেকে প্রকাশিত ওয়ার বুলেটিনে লেখা হয়, According to a delayed report received from Khulna, MB launched a series of attack on the Pakistani troops in Chakulia and Mollahat Police Station on Oct.26. On the same day freedom fighters captured Razakars along with 17 Rifles in Ashasuni and Chapra area of the District.

    (তথ্য : লে: গাজী মো. রহমতউল্লাহ বিপি, খিজির আলী বীরবিক্রম শেখ আ. কাইয়ুম)।
 

আশাশুনি থানা ও চাপড়া রাজাকার ঘঁfটি পুন:আক্রমণ :
অক্টোবর মাসে দ্বিতীয়বার আশাশুনি থানার দখল গ্রহণ করলেও পরদিন পাকবাহিনীর জঙ্গি হেলিকপ্টারের ছত্রচ্ছায়ায় শত্রু সৈন্যরা পুনরায় আশাশুনি থানা ও চাপড়া ক্যাম্পের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে এবং মুক্তিবাহিনীর পিছু হটে সুন্দরবনে আশ্রয় গ্রহণ করে । তখন থেকে তাদের সুতারখালী সন্নিকটে সুন্দরবনের অভ্যন্তরে ১৫-২০ ফুট উচুতে মাচা করে সেখানে অবস্থান করতে হয় । কিছুদিন পর সাবমেরিনার লে: রহমতউল্লাহ, মেজর আরেফিন ও খিজির আলী তঁাদের বাহিনী নিয়ে অগ্রসর হয়ে হেতালবুনিয়া এবং হাতিরডাঙ্গা ক্যাম্প পুন:প্রতিষ্ঠা করে অনেক সফল অভিযান পরিচালনা করেন ।
২৫ অক্টোবর এই কমান্ডোর নেতৃত্বে ৫০ জন মুক্তিযোদ্ধা এবং নৌ-কমান্ডো সমন্বিতভাবে আশাশুনি থানা পুনরায় আক্রমণ করেন; কিন্তু এখানে দুই কোম্পানি রেঞ্জার্স, রাজাকার প্রধান সড়ক এবং নদীর কিনারে বঁা ধের পাশ দিয়ে শতাধিক বাঙ্কার ও ট্রেঞ্চ খুড়েঁ রাখে । তারা এক বাঙ্কার থেকে ট্রেঞ্চের অভ্যন্তর দিয়ে প্রতিটি বাঙ্কারের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করে । বাঙ্কারগুলোর ওপর বাঁশ ও টিন ফেলে তার উপর মাটির মোটা আচ্ছাদন দিয়ে রাখে । বর্ষায় মাটিতে ঘাস জন্মানোর ফলে বাঙ্কারগুলোকে নির্দিষ্ট করাও কঠিন হয়ে পড়ে ।
২৫ অক্টোবর রাত আটটায় ৫০ জন মুক্তিযোদ্ধা এবং নৌ-কমান্ডোর সমন্বয়ে আশাশুনি থানা আক্রমনের জন্য হেতালবুনিয়া মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্প থেকে রওনা হন । রাত ১২টায় থানাকে ঘিরে তিনদিক থেকে আক্রমণ রচনা করা হয়। কিন্তু শত্রু সৈন্যরা এমনভাবে সুসজ্জিতছিল যে, মুক্তিবাহিনী তঁাদের ফঁাদে আটকে যায় । প্রবল গোলাগুলির মাঝে নৌ-কমান্ডো আ. সাত্তার এবং গেরিলা যোদ্ধা আবদুল মজিদ আহত হন । গুলি সাত্তারের উরুর মাঝখান দিয়ে দু’পা ভেদ করে চলে যায় । আ. মজিদও মারাত্মকভাবে আহত হন । ফলে নেতৃবৃন্দ কভারিং ফায়ার দিতে দিতে পিছু চলে আসেন। আহত দুজনকে চিকি..সার জন্য ভারতে পাঠিয়ে দেয়া হয় । যুদ্ধাহত আবদুস সাত্তার এখন তাবানী বেভারেজ কোম্পানি লিমিটেড চাকরি করেন ।
এই যুদ্ধে অংশ নেন কমান্ডো আলী আশরাফ, বজলুর রহমান, খলিলউল্লাহ, সৈয়দ আকরাম, আরজ আলী, মাহফুজুল হক, জিএমএ গাফ্ফার, বিশ্বনাথ পালিত, আ. হাকিম, শেখ সেলিম, নূরুল ইসলাম, জবেদ আলী, জিএমএ রহিম, ইমাম বারী, এমদাদুল হক, আ: জলিল, প্রফুল্ল, সুবোধ কুমার, শমসের আলী, মুজিবর রহমান, শেখ আ. কাদের, জবেদ আলী, হুমায়ুন কবীর, যোয়াদুর রসূল, আলফাজউদ্দিন, ডা. রুহুল হক, শফিক আহমদ, আ. সাত্তার, জহুরুল হক, মনসুর আহমদ মাঝি, রুহুল আমিন, গোলাম মোস্তফা, এ. মালেক, আমিনুর রহমান, সামসুল হক ও আ. হামিদ ( সাক্ষা..কার গ্রহণ: হুমায়ুন কবীর, আলফাজউদ্দিন, বজলূর রহমান, আ. গফুর, আলি আশরাফ, আবদুস সাত্তার)।

 

চাড়পা রাজাকার ঘঁfটি পুনর্দখল :
২৯ অক্টোবর এই দল আরও সুসজ্জিত হয়ে আশাশুনি থানার পার্শ্ববর্তী নদীর বিপরীত পাড়ে চাপড়া গ্রামে পাকবাহিনীর দোসর আতিয়ার এবং মতিয়ারের বাড়িতে অবস্থানকারী রাজাকার ঘাটির উপর প্রচন্ড আক্রমন পরিচালনা করেন । রাজাকাররা ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে প্রতিরোধ ছাড়াই অবস্থান ছেড়ে পালিয়ে আত্নরক্ষা করে । কয়েকজন ধরা পড়ে । ৩১ অক্টোবর প্রচুর গুলি ও ১৫টি রাইফেলসহ ১৫ জন রাজাকার হেতালবুনিয়া ক্যাম্পে সাবমেরিনার লে: রহমতউল্লাহ বীর প্রতীকের কাছে আত্নসমর্পণ করে । এর আগেও বেশ কিছু সংখ্যক প্রায় ২০০ রাজাকার আত্মসমর্পণ করেছিল । সাবমেরিনার লে: রহমতউল্লাহর অনুমতিক্রমে তাদের মাঝে ৬০ জনকে কমান্ডো বজলুর রহমান ও শফিক আহমেদ হাতিরডাঙা মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্পের পার্শ্ববর্তী পুকুরে নৌ-কমান্ডো প্রশিক্ষণ প্রদান করেন । কিন্তু তাদের কোন নৌ-যুদ্ধে অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়া হয়নি । তবে আত্মসমর্পণকারী রাজাকার এবং পাকবাহিনীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন যুদ্ধে বিশ্বস্ততার পরিচয় দিয়েছে এবং পরবর্তী সময়ে তারা মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে । তাদের একটি তালিকা আছে ।

         (তথ্য: জিএমএ রহিম বজলুর রহমান ও জিএমএ গফ্ফার) ।

 

বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে সাতক্ষীরা জেলার গৌরবোজ্জ্বল অবদান আছে । ৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণে উজ্জীবিত ছাত্রসংগ্রাম পরিষদের মাধ্যমে সকল কলেজে ট্রেনিং এর পর ভারতে উন্নত আর্মস প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে মুজিব বাহিনী/মুক্তিবাহিনী গঠন করে অসংখ্য যুদ্ধ পরিচালিত করা হয় । মুজিবনগর স্থাপিত বাংলাদেশ সরকারের প্রথম অর্থ বাবদ কয়েক কোটি টাকা সাতক্ষীরার মুক্তিযোদ্ধারা প্রদান করেন । সাতক্ষীরার অসংখ্য যুদ্ধের মধ্য সাতক্ষীরার পাওয়ার হাউজ উড়িয়ে দেয়া ও দেবহাটার টাউন শ্রীপুরের যুদ্ধের কথা উল্লেখযোগ্য । ৭ই জুন ১৯৭১ দেবহাটার টাউন শ্রীপুরের ঐতিহাসিক যুদ্ধে শহীদ হন কাজল, নাজমুল, নারায়ণ এবং আহত/পঙ্গু হন এরশাদ হোসেন খান চৌধুরীহাবলু ছাড়া আরও অনেকে । গণনাট্য পরিবেশনা দল মুক্তিযোদ্ধা/জনতা কে যুদ্ধে সাহস জোগা, যেখানে তারিক আনাম খান, খায়রুল বাসার, এনামুল হক বিশ্বাস অবদান রাখেন । সাতক্ষীরা জেলার সমগ্র মুক্তি সংগ্রাম/যুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী মেজর এম.এ জলিল, লে: রহমতউল্লাহ, মো: কারুজ্জামান টুকু, স ম বাবর আলী, ক্যাপ্টেন শাহাজাহান মাস্টার, মোস্তাফিজুর রহমান, কামরুল ইসলাম খান, আবদুল মুয়িদ খান চৌধুরী দুলু, মনসুর আহমেদ, আবু নাসিম ময়নাসহ সকল মুক্তিযোদ্ধা/শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদেরকে সাতক্ষীরাবাসী চিরদিন স্মরণ রাখবে ।