সুন্দরবন টেক্সটাইল মিলস্ লি:

 

 

১। মিলের জন্মকথা/ প্রতিষ্ঠাকাল:

 

(ক) স্বাধীনতা পরবর্তীকালে গণপ্রজাতন্বাংলাদেশ সরকার কর্মসংস্থানের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশের বেকার সমস্যা দূরীকরন ও স্ব-নির্ভরতা অর্জনের লক্ষ্যে দেশের অনুন্নত এলাকায় কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির বিভিন্ন পরিকল্পনার মধ্যে বাংলাদেশ তথা বিশ্বের ঐতিহ্যবাহী ম্যানগ্রোভ সুন্দরবন অঞ্চলের সন্নিকটে সুন্দরবনের নামের সাথে সামঞ্জস্যরেখে সাতক্ষীরা জেলায় সুন্দরবন টেক্সটাইল মিল স্থাপনের পরিকল্পনা গৃহীত হয়। উল্লেখিত পরিকল্পনা বাস্তবরুপ দানের লক্ষ্যে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তত্কালীন বস্ত্রমন্ত্রী প্রয়াত এম, মনসুর আলীর ১৯৮০ সালের ১ জুনে ভিত্তি প্রস্তর স্থাপনের মাধ্যমে মিলটির যাত্রা শুরু হয়।

 

(খ) ১৯৮০ সনের ১লা জুন তারিখে ভিত্তি প্রস্তর স্থাপনের মাধ্যমে নির্মাণ কাজ সম্পন্নের পর চীন দেশ হতে আমদানীকৃত ২৪,৯৬০টি টাকু বিশিষ্ট স্পিনিং/সুতা উত্পাদন ইউনিটের ২৬০টি তাঁত বিশিষ্ট কাপড়ের ইউনিটের মেশিনারীজ স্থাপনের কাজ শেষে ১৯৮৩ সনের ৬ই অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে বানিজ্যিক উত্পাদন শুরুর মাধ্যমে মিলটির উত্পাদনের পথ যাত্রা শুরু।

 

(গ) মিলটি স্থাপনা কাজের সময় ো উত্পাদন কার্যক্রম শুরু থেকে বন্ধ হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত অত্র এলাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের প্রায় ১৫০০-১৭০০ জন বেকার নারী-পুরুষ শ্রমিক, কর্মচারী ও কর্মকর্তা নিয়োজিতের মাধ্যমে সরকারের বেকার সমস্যা দূরীকরণের সহায়ক ভূমিকা রেখে দেশের সুতা ও বস্ত্র চাহিদাও মিটানোর লক্ষ্য অর্জনের সহায়ক ভূমিকা রাখতে সক্ষম হয়েছিল।

 

(ঘ) বর্তমান সময়ের ন্যায় তত্কালীন সময়ে দেশে বস্ত্র শিল্পের প্রসার না থাকায় দেশের সুতা চাহিদা ো সদ্য স্তাপিত মিলটির গুনগত মানের উত্পাদিত সুতা বিক্রয়ের মাধ্যমে সুতা উত্পাদন ইউনিটটি মুনাফা করতে সক্ষম হলেও কাপড়ের ইউনিটটিতে লোকসান হতে থাকে। ক্রমাগত লোকসানের কারণে লোকসান পরিহারের লক্ষ্যে সরকারি সিদ্ধান্তমতে কাপড়েড় ইউনিটটি বন্ধ করে দিয়ে তদস্থলে ১৯৯৫ ইং সনে নীলকমল ইউনিট নামে চীন দেশ হতে আমদানীর মাধ্যমে ১৪৪০০টি টাকু বিশিষ্ট সুতা তৈরীর মেশিনারীজ স্থাপন করে সুতা উত্পাদন হতে থাকে।

 

২। লাভ / লোকসান:

    রাষ্ট্রায়ত্ব মিলটি সরকারি তহবিল সরবরাহকালে সন ভিত্তিক লাভ/লোকসানের তথ্য নিম্নরূপ :

(লক্ষ টাকায়)

সন

মুল ইউনিট (তাঁত ইউনিটসহ)

নীলকমল ইউনিট

সন

মুল ইউনিট (তাঁত ইউনিটসহ)

নীলকমল ইউনিট

 

লাভ

লোকসান

লাভ

লোকসান

 

লাভ

লোকসান

লাভ

লোকসান

১৯৮৩-৮৪

২৫.১০

-

-

-

১৯৯০-৯১

২২৮.৭৪

-

-

-

১৯৮৪-৮৫

২০২.১৯

-

-

-

১৯৯১-৯২

২০৮.৪১

-

-

-

১৯৮৫-৮৬

২৭৮.১৮

-

-

-

১৯৯২-৯৩

৪.৬৮

-

-

-

১৯৮৬-৮৭

৩৫৪.০০

-

-

-

১৯৯৩-৯৪

-

৩৪৯.৪৭

-

-

১৯৮৭-৮৮

২৮৭.০০

-

-

-

১৯৯৪-৯৫

-

১৪৯.৮৩

-

-

১৯৮৮-৮৯

৫৩২.১৩

-

-

-

১৯৯৫-৯৬

-

৩৩৫.৫৬

-

১৯৮.৬৫

১৯৮৯-৯০

৩২৯.৮৪

-

-

-

১৯৯৬-৯৭

-

৫৪৪.১০

-

১৬৩.০২

মিলের যৌবনে মিলটি লাভ করতে সক্ষম হলেও আধুনিক যুগে বে-সরকারি বস্ত্র শিল্পের প্রসার ঘটায় তাদের উত্পাদিত পন্য প্রতিযোগীতায় টিকে থাকতে না পারায় দেশের বিরাজমান বিদ্যুত ঘাটতি সময়ে সময়ে সরকার ঘোষিত জাতীয় বেতন-মজুরী কমিশন বাস্তবায়নের ফলে বেতন-মজুরী খাতে ব্যয়বৃদ্ধি সময়ে সময়ে সরকার কর্তৃক বিদ্যুত ইউনিট রেট বৃদ্ধিতে বিদ্যুত খরচ বৃদ্ধি, বিদ্যুত বিভ্রাট ও যন্ত্রাংশের অভাব ইত্যাদি জনিত কারণে লোকসান হতে থাকে।

 

    এমতঅবস্থায়, সরকারি তহবিল সরবরাহ না করায় কায়চামালের অভাবে মিলটি বন্ধ হোয়ার উপক্রম হয়। সে সময় রাষ্ট্রয়ত্ব শিল্প প্রতিষ্ঠানটি চালু রেখে কর্মসংস্থানের মাধ্যমে বেকার সমস্যা দুরীকরণের লক্ষ্যে সরকারি সিদ্ধান্তমতে সার্ভিস চার্জ পদ্ধতি চালু করা হয়। সার্ভিস চার্জ পদ্ধতিতে চালুকালীন লাভ / লোকসানের বিবরণ নিম্নরূপ:

 

সন

মুল ইউনিট (তাঁত ইউনিটসহ)

নীলকমল ইউনিট

সন

মুল ইউনিট (তাঁত ইউনিটসহ)

নীলকমল ইউনিট

 

লাভ

লোকসান

লাভ

লোকসান

 

লাভ

লোকসান

লাভ

লোকসান

১৯৯৭-৯৮

-

৫৬৫.৪০

-

১৩৯.৯৮

২০০৩-০৪

-

২৭৮.৪৭

-

৮০.২৩

১৯৯৮-৯৯

-

৪৮৪.৭২

-

৩১২.৭৫

২০০৪-০৫

-

২৩৬.২৩

-

৪৬.৪৭

১৯৯৯-২০০০

-

৩৯২.৮৩

-

১২৪.৬০

২০০৫-০৬

-

২৯০.২৯

-

১১৮.৭১

২০০০-২০০১

-

২৯৭.৬৯

-

৩৮.৭৮

২০০৬-০৭

-

৩৮০.৫২

-

১৭৬.৪০

২০০১-০২

-

২৭৫.৪১

-

৭০.৮৪

২০০৭-০৮

-

১৯৩.৬৩

-

৮৩.৩৩

২০০২-০৩

-

২৮৮.১০

-

১১০.১০

২০০৮-০৯

-

২৫২.৫২

-

৪০.০৮

 

৩। বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দা ও ২০০৭-০৮ সনে দেশে বিরাজমান পরিস্থিতির কারণে সুতার বাজার অত্যন্ত মন্দা থাকায় সার্ভিসচার্জ পার্টিগন ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ায় অপারগতা প্রকাশ করে চুক্তির অবসান ঘটান। ফলে ২০০৮ সনের নভেম্বর মাস হতে মিলটির উত্পাদন কার্যক্রম সম্পূর্ণরূপেবন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে সার্ভিস চার্জ পার্টি নিয়োগের মাধ্যমে মিলটি পরিচালনার প্রচেষ্ট সত্বেও কোন সার্ভিস চার্জ পার্টি পাওয়া যায়নি বিধায় এখনও মিলটির উত্পাদন কার্যক্রম সম্পূর্ণরুপে বন্ধ আছে। তবে রাষ্টায়াত্ব শিল্প প্রতিষ্ঠানটির সম্পদ রক্ষার্থে ও দৈনন্দিন অত্যাবশ্যকীয় কাজকর্ম তদারকী / সম্পন্নের জন্য বর্তমানে ৪৭ জন অত্যাবশ্যকীয় জনবল কর্মরত আছে।

 

৪। সম্পদের বিবরণ :

    ২৯.৪৭ একর জমির চারিধারে প্রাচীরের মধ্যে কারখানা ভবন, গুদাম, ওয়ার্কসপ, অফিসসমূহ, পুকুর, জামে মসজিদ, বিদ্যালয়, বিশ্রামাগার, ক্লাব, আবাসিক ভবন ও টিনসেড (অধিকাংশ বসবাস অনুপযোগী)। ইহা ব্যতীত পতিত জমিতে বিভিন্ন শ্রেণীর প্রচুর সংখ্যক ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছ আছে। তন্মধ্যেগামওয়েল ও সৌদি খেজুর গাছ উল্লেখযোগ্য।

 

৫। প্রকল্প ব্যয় :

       (১) স্থানীয় মুদ্রা-       ২১৭১.৫৬ লক্ষ টাকা।

       (২) বৈদেশিক মুদ্রা-     ১০৫৫.৯৮ ,,  

 

৬। বর্তমান ঋণের অবস্থা-    

(১) এডিপি লোন-      ২৬০.০০ লক্ষ টাকা

(২) অভারডিউ লোন-   ৪৬৯.৮৭ ,,

(৩) আইডিএ ক্রেডিট-   ১.৫১    ,,

(৪) ইকুইটি-          ১৩৮৬.৫১ ,,

(৫) বিটিএমসি হইতে লোন(সরকারি)- ৪২২১.০০ ,,

(৬) বিটিএমসি চলতি হিসাব-  ৪০৭.০০ ,,

(৭) অন্যান্য-         ১৭.৭১ ,,